NOT LATE by international writer .SRABONSAGOR writtens
অমর ২১ ফেব্রুয়ারি,১৯৫২ ইং স্মরণে
সমসাময়িক লেখা-
বাংলা ভাষার কথা বলি
লেখক-শ্রাবণসাগর
প্রত্যেক মানুষের কাছে তার ও তাদের নিজস্ব ভাষার অনেক গুরুত্ব থাকে,যা বোধকরি অনেক পুরনো ও কাঙ্খিত । যদিও বিদেশি ভাষার প্রতি অনেকের আকর্ষণ ও পেশা বা শেখার প্রয়োজনীয়তার দরুণ তারা ঐ সব ভাষা,বিশেষতঃ ইংরেজী বা আরবী ইত্যাদি ভাষা রপ্ত করে থাকে কিন্তু নিজের মনের আকুতি কিংবা ব্যাকুলতা,আবেগ সহ যাবতীয় স্বাধীন কার্যকলাপ অব্যাহত রাখতে তাকে অবশ্যই প্রত্যাবর্তন করতে হয় নিজ ভাষার প্রতি । অথচ আশ্চর্য বিষয় এই যে,তারা তাদেরকে এই মাতৃভাষা শিখতে অবশ্যই প্রত্যেককে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হয়নি বা হবেও না কখনও । অথচ অন্যান্য সকল বিষয় যেমন-গনিত,আরবী,ইংরেজী,বিজ্ঞান,অর্থনীতি বা ডাক্তারি-ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা আইন ও ভূমি বিষয়ক সকল তথ্য বা হালের তথ্য প্রযুক্তির বহুল ব্যবহৃত কার্যক্রম সমূহ সহ যে কোন বিষয়ে জ্ঞানার্জন করতে হলে শিক্ষা কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত হতে হয় ,যা অবশ্যই বাধ্যতামূলক । যদিও এই সবকিছু শিক্ষার মূলেই মূলতঃ অনেক বেশি অবদান থাকে মানুষের নিজের ভাষার বা গুরুত্ব কিন্তু তার এই যে নিজস্ব ভাষা শেখা ও সেই ভাষায় অন্যান্য সকল মানুষের সাথে কথা বলার বিষয়টি কেন যেন অন্তরালেই থেকে যায়,এক আশ্চর্য ও অদৃশ্য কারণে। হয়তোবা এমনটি হতে পারে যে,এই ক্ষুদ্র স্বার্থের মধ্যে যে মানুষের এত বড় একটি স্বার্থ লুকায়িত আছে,সেটি কখনও কারোরই খেয়ালই হয়নি। সে যাই হোক,অনেকে হয়তো ভাবছেন এইসব অহেতুক কথা বলে বা লিখে কেন সকলের মূল্যবান সময় নষ্ট করছি?কিন্তু এই কথা তো সত্যি ,যে কোন একজন মানুষের জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তার ও তাদের কাছে একমাত্র ভাষা বা কথাই থাকে নিরন্তর মাধ্যম হয়ে তার ও তাদের নিজেকে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করে। অথচ আমরা মানুষেরা সেই মহামূল্যবান রত্নকে উপেক্ষা করি হরহামেশাই , মনে করি ভাষার আর কী বা কতটুকু গুরুত্ব কিংবা প্রভাব মানুষের জীবনের উন্নয়ন ও জীবন যাপনের গতিধারায়?অত্যন্ত গর্বের সাথে বলতে হয় যে, যেই বিষয়টি বিশ্বের সমগ্র মানব জাতির মধ্যে সর্বপ্রথম উপলব্ধি করতে পারেন একমাত্র তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশীরা । তাইতো তারা বুকের তাজা রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে নিজের মনের ভাব স্বাধীনভাবে প্রকাশের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন সেই সময়কার শাসক দলের রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে । । এসব কথা যদিও ইতিহাস ও সাহিত্যের অন্তরালে থেকে থেকে একসময় রূপকথার গল্পে পরিনত হতে পারে কিন্তু মূল কথা ভিন্ন যে,সেই সময়কার বাংলাদেশের ঐ সকল সূর্য সন্তানদের মহান আত্মত্যাগের বিনিময়েই আজ বাংলাদেশের মহান ভাষা আন্দোলন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃত । অবশ্যই এটি এই জাতির জন্য অনেক বড় একটি পাওয়া কিন্তু এটাই কি সব?বর্তমানে বিশ্বের প্রায় অর্ধশত কোটি মানুষের মাতৃভাষা বাংলা,অথচ আমরা বাংলাদেশীরা নিজেদের মাতৃভাষাকে উপেক্ষা করে বিভিন্ন বিদেশি ভাষা শিখতে অনেক বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে দিনকে দিন । কথায় কথায় বা অনর্গল ইংরেজী বলার কিংবা লিখবার প্রবণতা বেড়েই চলছে মানুষের মধ্যে,যেন ইংরেজী বলা বা জানাটাই শিক্ষার মূল মাপকাঠি। বিশেষতঃ উচ্চশিক্ষিত মানুষের মধ্যে এই প্রভাব অনেক বেশি,একটি কথা না বলে আর পারছি না যে,আসলে এটি এখন একটি সামাজিক সমস্যা,মানুষের নিজেকে জাহির করার একটি প্রচেষ্টা মাত্র,শিক্ষা বা শিক্ষিত হওয়ার সাথে এদের কোন সম্পর্ক নেই ।
+++++++++++
পরাধীনতার স্বাধীনতা
লেখকঃশ্রাবণসাগর
পৃথিবীতে চোখ খুলে মানুষ আকাশ দেখতে পায়,খুঁজে নেয় নিজের আপনজনকে। সময়ের পরিবর্তনে একসময় নিজের অস্তিত্বকে প্রকাশ করতে গিয়ে মানুষের কাছে ভালোবাসে স্বাধীনতাকে।অথচ তথাকথিত এই স্বাধীনতার কোনো অব
কাশই নেই পৃথিবীতে মানুষের জীবদ্দশায় কিংবা মৃত্যু পরবর্তীতেও পর্যন্ত। কারন মূলতঃ প্রতিটি মানুষই তথা অন্যান্য জীবজন্তুর জীবনকাল সম্পুর্ণরূপেই নিমজ্জিত পরাধীনতার করাল গ্রাসে। সে যেভাবেই হোক না কেন,যেমন-রাজনৈতিক বা সামাজিক,ধর্মীয় বা অর্থনৈতিক অথবা সাধারণ ও অতি সাধারণ যে কোন প্রয়োজনে,জীবন যাপন ও উন্নয়ন স্বার্থ ইত্যাদি। একটু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় এসবের প্রতিটি ক্ষেত্রেই পৃথিবীর যে কোন মানুষ বা জীবনই কোন না কোনভাবে ভিন্ন বা অপর কোন একটি বিষয়ের সাথে সম্পর্কগত হওয়ার কারনে জীবদ্দশায় চিরদিন এই পরাধীনতার গ্লানিকে বয়ে বেড়াতে হয়।
যেমন-ধরা যাক,একজন চাকুরীজীবির কথা কিংবা ধরি,যে কোন একজন পেশাজীবি মানুষ,যেমন -ডাক্তার, কবিরাজ বা উকিল,মোক্তার,ছোট - বড় কোন একজন ব্যবসায়ী, এইসব যে কেহ একজন মানুষ তার নিজস্ব গন্ডির মাঝে সম্পূর্নরূপে পরাধীন থাকে আমৃত্যু পর্যন্ত। যদিও এই পরাধীনতার সীমা অপরিসীম নয়,অর্থাৎ বিষয়টি মূলতঃ দৃষ্টি গোচরীভুত হয় কেবলমাত্র কর্মগত স্বাধীনতাহীনতার জন্য যে, সে বা যে কেহ একজন মানুষ চাইলেই সমাজ বা দেশ ও মানবতা বিবর্জিত কোন কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে পারে না অথবা করতে বা চিন্তা করতে পারে না এমন কোন একটা কাজ করার, যা তার বা তাদের পক্ষে করা বা ভাবনা করাও সম্ভব নয়, হয়ত তার বা তাদের ব্যক্তিগত অবস্থা বা অবস্থানের কারনে। অনেকটা বাক স্বাধীনতার মত একটি বিষয় যে,যে কোন মানুষই চাইলেই বা ইচ্ছা করলেই যে কোথাও যে কাউকে যে কোন একটি কথা বলতে পারে, হোক সে যে কোন মাধ্যমে বা যে কোন বিষয়ে।অথচ এটা কোনভাবেই স্বীকৃত বা গ্রহণযোগ্য নয় কারো কাছেই। এসবের নামই পরাধীনতা,স্বাধীনতার উল্টোপিঠে যার অবস্থান,প্রতি টি মানুষ বা জীবন তথা জীব বা প্রাণীই এর অন্ত্ভুক্ত,এমনকি মৃত্যু পরবর্তীতেও যার ব্যতিক্রম নেই।
যদিও এখানে সেই আলোচনা অর্থাৎ মৃত্যু পরবর্তী স্বাধীনতা বা পরাধীনতার সম্পর্কে কোন মন্তব্য করার মোটেই অবকাশ নেই কারন এই বিষয়ে প্রত্যেক মানুষেরই একটি ব্যক্তিগত বিশেষতঃ ধর্মীয় ধারণা বা বিশ্বাস রয়েছে, যাকে উপেক্ষা করা কারোরই পক্ষে সম্ভব নয় বলেই মনে হয়। তাই এখানটায় আমরা যে বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছি, সেটি হলো শুধুমাত্র মানুষের জীবদ্দশায় তাদের অধিকার বিষয়ক আলোচনা মাত্র। বর্তমান বিশ্বের প্রায় সবগুলো দেশের মানুষের কথা যদি চিন্তা করা হয়, তাহলে সম্ভবতঃ বর্তমানে একমাত্র আমেরিকা ও মালয়েশিয়াসহ আরোও দু-চারটে দেশ ব্যতীত, বিশ্বের প্রায় সবগুলো দেশের মানুষই এখন স্বাধীনতা বিবর্জিত, বিশেষ করে রাশিয়া ও ইউক্রেন, তাইওয়ান ও চীন বা ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যেকার যুদ্ধ, বিভিন্ন দেশের জনগণ ও সরকারের অন্ত্ঃদ্বন্দ্ব কিংবা জনগণের ক্ষমতার খর্বিত করন ইত্যাদি অমানবিক পরিস্থিতিতে বলা যায় সকল দেশের মানুষের স্বাধীনতা যেন পরাধীনতার অন্তর্জালে আবদ্ধ। মানুষের ভোটের বা কথা বলার অধিকার আজ ভূলুণ্ঠিত, আইনের নামে দুঃশাসন ও নির্যাতন বা শোষণ-উৎপীড়নে জর্জরিত সবাই, এমনিতেই তো পারিবারিক ও সামাজিক বাধ্যবাধকতা, তার উপরে মরার উপর খড়ার ঘাঁ-এর মতো করে চাপানো সরকারি শাসন বা অনুশাসনের বোঝা, যেখানে অধিকার বা স্বাধীনতার লেশ মাত্র নেই পৃথিবীতে,সেখানটায় মানুষ কী আশা করতে পারে, তাদের প্রত্যেকের একটি মাত্র জীবনে?
Comments
Post a Comment